Skip to main content

 

003.jpg

 

বঙ্কুবাবু সাঁতার ভালো জানতেন, ভালো প্রশিক্ষক ছিলেন সেটা বড় কথা নয়। বঙ্কুবাবু বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন।

তিনি এক শহরে এসে বাচ্চাদের সাঁতার শেখানোর জন্য বিজ্ঞাপন দিলেন। সবাই এসে বলল, বাব্বা!! এত্তো জল! আমাদের ছেলেমেয়েদের পাঠাই কী করে বাপু!

সবাই ফিরে গেল। অন্য কোনো প্রশিক্ষক হলে তিনিও ফিরে যেতেন। কিন্তু বঙ্কুবাবু অন্য ধাতুতে গড়া। তিনি আরেক উপায় ঠিক করলেন। আবার বিজ্ঞাপন দিলেন। আবার দলে দলে অভিভাবকেরা এলেন। এসে আশ্চর্য হলেন। এবার সাঁতার প্রশিক্ষণ হবে চাঁদোয়া ঘেরা এই খোলা মাঠে! কী আশ্চর্য! কিন্তু কীভাবে?

বঙ্কুবাবু বললেন, ভারী সোজা। এই যে বিশাল ব্ল্যাকবোর্ড দেখছেন, এইখানে ছবি এঁকে এঁকে শিখিয়ে দেব। তারপর হাত পা কীভাবে ছুঁড়তে হয় আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেখাবো, ওরা আমায় নকল করবে। আরো যদি চান, ঝড়ে, সুনামিতে কীভাবে আত্মরক্ষা করতে হয় তাও শিখিয়ে দেব। তবে তার জন্য আলাদা ফি।

সব্বাই রাজি। খুশি খুশি সবাই নিজেদের ছেলেমেয়েদের পাঠাতে শুরু করলেন। মাসের পর মাস তারা মাঠে বসে শুয়ে দাঁড়িয়ে হাত পা ছুঁড়ে ছুঁড়ে এমন অভ্যস্ত হয়ে গেল যে মাঠে, রাস্তায়, ঘরে, ছাদে, স্কুলে সর্বত্র হাত পা ছোঁড়া অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেল। তারা খালি ভয় পেত জলকে। সবাই প্রশংসা করল। নিন্দুকে বলল, এ তো ফাঁকি! গুরুজনেরা বললেন, ফাঁকি কেন হবে, ওদের চেষ্টাটাই আসল, জলটা নয়। ওটা নিমিত্ত, গৌণ।

সব ঠিক চলছিল। হঠাৎ গুজব রটে গেল বাঁধের জল ছাড়া হবে। গোটা শহর বন্যায় ভেসে যাবে। সব্বাই শঙ্কিত হল। কাল ভোরেই নাকি জল ছাড়া হবে। দৌড়ালো সব্বাই বঙ্কুবাবুর বাড়ি। কিন্তু তিনি কই? ফাঁকা মাঠ বর্ষার মেঘের জলে নিরুপায় দাঁড়িয়ে ভেসে যাচ্ছে। ব্ল্যাকবোর্ড নিয়ে বঙ্কুবাবু ততক্ষণে অন্য শহরের উদ্দেশ্যে। গুরুজনেরা সব শুনে ভেসে যেতে যেতে বললে, সবই ভবিতব্য। আমাদের জীবনগুলো তো নিমিত্তমাত্র।