Skip to main content

আঃ

ছেলেটার নাম ধরি, প্রত্যহ। সে ভালোবাসল, ধরি প্রাত্যহিকীকে। ধীরে ধীরে হৃদয়ের সব দিক দিল খুলে। প্রথমে খুলল, পূব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ। সে আরো এগোলো।
...

মায়া

দীঘির পাড়ে যে বড় বটগাছটা তার একটা ডালে শুয়ে আছে ভরত। ব্রহ্মদৈত্য। মধ্য আকাশে চাঁদ। বসন্তের বাতাস বইছে মৃদুমন্দ। একটা পেঁচা

কিসে?


ভবতোষবাবু একা কৃষ্ণমন্দিরে বসে। বহু পুরোনো মন্দির। সন্ধ্যারতি হয়ে গেছে আধঘন্টা হল। মাঘমাসের প্রথম সপ্তাহ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। তাই আজ তাড়াতাড়ি ফিরে গেছে সবাই।

মাঝি

তারপরে সে হাল ধরল। কুয়াশায় ঘেরা সকাল। একজন বললে, মাঝি তুমি পথ চেনো?  মাঝি হাসল। বলল, পথ চিনি না, মন চিনি।
...

দোতলা

নীতিশ বাসের ঝাঁকুনিতে চমকে বাইরে তাকালো। বাইরেটা কুয়াশায় কুয়াশা। বাসটা আমডাঙা থেকে প্রথম ছাড়া বাস। নীতিশ এটাতেই কাজে যায়। বড়বাজারে একটা সোনার দোকানে কাজ করে। বয়েস আঠাশ। বিয়ে করেনি। স্কুলের পড়াশোনা এইট অবধি।
...

পিপাসা

লোকটার ছিল ভীষণ পিপাসা। সারাদিন তাই আগল দিয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চাইত সবার থেকে। তার দরজায় ছিল ছোট্ট একটা ছিদ্র। একটা বড় পিঁপড়েকেও ঢুকতে হত সে ছিদ্র দিয়ে কষ্ট করে। ...

কন্ডোম

ওরা চলে যাওয়ার পরেও অনেকক্ষণ ধরে ভদ্রমহিলা বাইরের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে রইলেন। বাচ্চাগুলো খেলতে যাচ্ছে। একজন বাচ্চা বলল, "ও ঠাকুমা, নানুকাকান চলে গেল হায়দ্রাবাদ? আবার পরের পুজোয় আসবে?"

পাথেয়

কেন আসো বুড়ি? কি চাই তোমার? সারাগায়ে রত্তি তো নেই একফোঁটাও। ছেঁড়া ফুটিফাটা শাড়ি। হাওয়াই চটিটার বয়েস তো যেন তোমার চেয়েও বেশি বুড়ি, ওকে রেহাই দাও এবার। তোমার কোলের কাছে লাঠি দেখছি যে বুড়ি, ওই লাঠি ঠুকে ঠুকে আসো বুঝি এই মন্দিরে? গাড়ি চড়ার পয়সা নেই? ...

হিসেবী

রোহিনীর মনে হল যেন একটা দমকা হাওয়ায় বইয়ের পঞ্চাশটা পাতা এক্কেবারে উড়ে গেল। এই তো খানিক আগেও সব ঠিক ছিল। সুনন্দের কাছ থেকে আজ দীপান্বিতা ম্যাডামের নোটটা নিতে এসেছিল। রোহিনী ফিলজফিতে মাষ্টার্স করছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এটাই প্রথম বর্ষ। সকাল থেকে শরীরটা ভালো ছিল না। মনে হয়েছিল হয়তো জ্বর আসবে। এলো না। প্রত্যেকবার এই সিজন চেঞ্জের সময় তার এরকম হয়। অক্টোবর মাসের শেষের দিক। অল্প অল্প ঠান্ডা ঠাণ্ডা পড়েছে। পূজোটা মাসের শুরুর দিকেই হয়ে গেছে। একটা পাতলা চাদর গায়ে দিয়ে সে ফিরছিল তাদের বাড়ির দিকে। পনেরো মিনিটের হাঁটা পথ। সব বদলে দিল। ...

বিলুজ্যাঠা

লোকটা হনহন করে হেঁটে যাচ্ছিল। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা হবে। এই গ্রামের দিকটায় এই সময়টা শীতকালে বড় একটা বাইরে কাউকে দেখা যায় না। চারদিকের বাড়িগুলোর জানলা বন্ধ। লোকটা একা একাই হেঁটে চলেছে। মাথাটা মাফলার আর কান ঢাকা টুপিতে মোড়া। শুধু চোখদুটো বেরিয়ে আছে।

Subscribe to অনুগল্প